কসোভো কাজের ভিসা

কসোভো পূর্বে সার্বিয়ার প্রদেশ থাকলেও বর্তমানে এটি ইউরোপের বলকান অঞ্চলের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। কসোভো ২০০৮ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা পেলেও দেশটি ১৯৯৯ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

বর্তমানে কসোভো প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত কসোভো সরকার বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বহু দেশ থেকে অসংখ্য শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে।

কসোভো কাজের উদ্দেশ্যে যেতে কাজের ভিসা প্রয়োজন। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে সহজ প্রক্রিয়ায় অল্প টাকা আবেদন ফি প্রদানের মাধ্যমে কসোভো কাজের ভিসা আবেদন করা যায়।

কসোভো কাজের ভিসা

কাজের ভিসা বলতে মূলত ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কে বোঝানো হয়। নাগরিকত্বহীন দেশে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রয়োজন।

বর্তমানে কসোভো ওয়ার্ক পারমিট অর্থাৎ কাজের ভিসা পাওয়া পূর্বের তুলনায় অনেক কঠিন। তবে সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সহজে কসোভো ওয়ার্ক পারমিট অর্থাৎ তাদের ভিসা পাওয়া যায়।

কসোভো কাজের ভিসা দাম কত

বর্তমানে কসোভো কাজের ভিসার চাহিদা পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসার দাম পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সরকারই ভাবে কম খরচে কসোভো কাজের ভিসা পাওয়া যায়। বর্তমানে সরকারি ভাবে কসোভো কাজের ভিসা পেতে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করতে হয়।

অপর দিকে বেসরকারি ভাবে অর্থাৎ এজেন্সির সাহায্যে কসোভো কাজের ভিসা তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন প্রায় ৬ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে।

কসোভো কাজের বেতন কত টাকা

বর্তমানে কসোভো কাজের সর্বনিম্ন বেতন ন্যূনতম ৪০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কাজের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কসোভো কাজের বেতন নির্ধারণ করা হয়।

যেমন কসোভো কোম্পানি কাজের বেতন ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং সরকারি কাজের বেতন ন্যূনতম ৮০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা হয়ে থাকে।

তবে দক্ষতা অনুযায়ী কসোভো কাজের বেতন বেশি হয়ে থাকে। কসোভো একজন দক্ষ কর্মচারী ও কর্মকর্তার ন্যূনতম মাসিক বেতন ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার উপরে হয়ে থাকে।

কসোভো কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে

বর্তমানে কসোভো যেতে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। কসোভো যাওয়ার খরচ ভিসা ও বিমানের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে।

ভিসা তৈরি ও বিমান ভাড়া সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র তৈরি এবং সংগ্রহ করে কসোভো যেতে সর্বনিম্ন প্রায় ৮ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়।

কসোভো কোন কাজের চাহিদা বেশি

বর্তমানে কসোভো দক্ষ শ্রমিকের অনেক চাহিদা রয়েছে। তবে অবশ্যই কসোভো চাহিদা সম্পন্ন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কসোভো কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। তবে দক্ষতা ছাড়াও অনেক চাহিদা সম্পন্ন কাজ পাওয়া যায়।

  • কন্সট্রাকশন লেবার, ড্রাইভিং ও রেস্টুরেন্টে চাকরি।
  • শপিংমল, ক্লিনার ও কৃষি কাজ।
  • হোটেল ও কোম্পানির চাকরি এবং ডেলিভারি ম্যান। ইত্যাদি।

কসোভো কাজের ভিসা পেতে কি কি লাগে

কাজের ভিসা অর্থাৎ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার জন্য প্রথমে আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদন ফরমে দেওয়া সকল তথ্য যাচাইয়ের জন্য কিছু কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়। সকল কাগজ পত্র অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে।

  • কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদী ই-পাসপোর্ট।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট।
  • পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • লাইসেন্সকৃত নিয়োগকর্তা কর্তৃক কাজের অফার।
  • মেডিকেল সনদ।
  • কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট।

বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে কসোভো যাওয়ার খরচ দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এজেন্সির তৈরিকৃত সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। কসোভো ভিসা তৈরির ক্ষেত্রে অসাধু দালাল ও এজেন্সি থেকে সতর্ক থেকে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top